হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, আপনার জীবন এমন এক ফিতনা-বিদ্রোহ ও অশান্তিপূর্ণ যুগে অতিবাহিত হয়, যখন আব্বাসীয় সরকার আহলে বাইত (আ.) ও তাদের অনুসারীদের ওপর চরম চাপ প্রয়োগ করছিল। বিশেষত, ইমামতের সময়কালে আপনাকে নিরন্তর সরকারি নজরদারি, নিষেধাজ্ঞা, গৃহবন্দিত্ব ও কারাবন্দি-এরকম পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। তা সত্ত্বেও, ইমাম হাসান আসকারী (আ.) আপনার সংক্ষিপ্ত কিন্তু বরকতময় জীবন শিয়াদের হিদায়াত, শিক্ষা-দীক্ষা, দ্বীনি জ্ঞানের প্রসার ও ইসলামের নিদর্শনসমূহের সংরক্ষণের জন্য উৎসর্গ করেছেন। আপনার পবিত্র জীবন ছিল জ্ঞান, নৈতিকতা, ধৈর্য, তাকওয়া ও জুলুমের বিরুদ্ধে দৃঢ়তার এক উজ্জ্বল নমুনা।
আপনি (আ.) সবচেয়ে তীব্র রাজনৈতিক চাপ সত্ত্বেও কখনো সত্যের পথ থেকে পা পিছু হননি। আপনার শিক্ষা এবং জ্ঞান-নৈতিকতার ঐতিহ্য উম্মতের জন্য এমন এক অমূল্য সম্পদ রেখে গেছে, যা আগামী প্রজন্মের জন্য পথের প্রদীপ হয়ে রইল। আপনার জীবন আমাদের এই শিক্ষা দেয় যে, পরিস্থিতি যত কঠিনই হোক না কেন, সত্য, দ্বীন ও নীতির ওপর অটল থাকাই ঈমানদারদের প্রকৃত কর্তব্য।
পরিশেষে, ২৬০ হিজরি সনের ৮ রবিউস সানি তারিখে সামাররায় আপনাকে বিষপ্রয়োগে শাহাদত বরণ করানো হয়। আপনার শাহাদত শিয়া আহলে বাইতের (আ.) অন্তরকে শোক ও বেদনায় পূর্ণ করে দেয়। এই মর্মান্তিক ঘটনা তাশাইয়ু‘র ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় হয়ে দাঁড়ায়, কারণ ইমাম হাসান আসকারী (আ.)-এর শাহাদতের পর আপনার সম্মানিত পুত্র হযরত ওলীয়ে আসর ইমাম মাহদী (আ.জ.)-এর ইমামত শুরু হয় এবং গায়বাতের যুগের নতুন অধ্যায়ের সূচনা ঘটে।
৮ রবিউল আউয়াল যদিও বাহ্যিকভাবে শোকের দিনগুলোর সমাপ্তি, কিন্তু শোকের বার্তার সমাপ্তি ঘটে না। মুহাররম থেকে রবিউল আউয়াল পর্যন্ত চলমান এই দিনগুলো আমাদের শুধু শোক পালনের জন্য নয়, বরং আমাদের সংশোধন, উন্নতি, মা‘রিফাত, জাগরণ ও ব্যবহারিক পরিবর্তনের জন্য দান করা হয়। শোক পালনের প্রকৃত ফল হল-আমরা আহলে বাইতের (আ.) জীবনচরিত এবং তাদের কুরবানিগুলোকে আমাদের জীবনের অংশ করে নেওয়া।
সুতরাং, ৮ রবিউল আউয়ালের সঙ্গে যদিও শোকের এক পর্ব সমাপ্ত হয়, শোকের বার্তার যাত্রা সর্বদা অব্যাহত থাকা উচিত এবং থাকবে। শুধু প্রয়োজন এই যে, আমরা এই দিনগুলোকে আমাদের বৃদ্ধি ও হিদায়াতের পথপ্রদর্শক করি; অন্যথায় এই দিনগুলোও আসবে, আমরা মজলিস ও শোকানুষ্ঠান করব, অশ্রুপাত করব, এবং তারপর সময়ের সঙ্গে সব ভুলে গিয়ে আগামী বছরের অপেক্ষা করতে শুরু করব।
শোকের উদ্দেশ্য কেবল দিন কাটানো নয়, বরং নিজেকে পরিবর্তন করা;
শুধু চোখকে অশ্রুসজল করা নয়, বরং হৃদয়কে জাগ্রত করা;
শুধু দুঃখ-কষ্ট শোনা নয়, বরং আহলে বাইতের (আ.) বার্তাকে নিজের জীবনে বাস্তবায়িত করা।
যদি আমাদের শোকানুষ্ঠান আমাদের চরিত্র, নৈতিকতা, চিন্তা, সামাজিক জীবন ও দ্বীনদারিতে কোনো পরিবর্তন আনে না, তাহলে আমাদের থেমে ভাবা দরকার যে, আমরা এই দিনগুলো থেকে কী লাভ করলাম?
অতএব আসুন! ইমাম হাসান আসকারী (আ.)-এর শাহাদতের এই হৃদয়বিদারক মুহূর্তে অঙ্গীকার করি যে, শোকের দিন শেষ হতে পারে, কিন্তু শোকের বার্তা, কারবালার রূহ, আহলে বাইতের (আ.) শিক্ষা এবং সত্য ও ন্যায়ের সংগ্রাম আমাদের জীবনে সর্বদা অব্যাহত থাকবে।
ইমাম হাসান আসকারী (আ.)-এর শাহাদত উপলক্ষে হযরত ওলীয়ে আসর ইমাম মাহদী (আ.জ.), সমস্ত শিয়া আহলে বাইত (আ.) এবং আল-ই মুহাম্মাদ (সা.)-এর প্রেমিকদের আন্তরিক শোক ও সমবেদনা জানাচ্ছি।
আপনার কমেন্ট